প্রেস বিজ্ঞপ্তি-ক্লাবফুট

ক্লাবফুট একটি জন্মগত ত্রুটি, যা সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে পা বাঁকা হয়ে যাওয়া, পায়ের পাতা বেঁকে যাওয়া ইত্যাদি অঙ্গ বিকৃতির ফলে শিশু জীবনভর প্রতিবন্ধীতে পরিণত হয়। জন্মগত ত্রুটির মধ্যে অন্যতম ক্লাবফুট, এতে প্রতি বছর বিশ্বের দু’লক্ষের বেশী সদ্যজাত শিশু আক্রান্ত হয়। তথ্য অনুযায়ী প্রতি এক হাজার শিশুর মধ্যে দু’জন ক্লাবফুটের সমস্যায় ভোগে। রাজ্যেও ক্লাবফুটে আক্রান্ত শিশু রয়েছে। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে ২০১৩ সালের ১০ অক্টোবর থেকে কিওর ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়ার সঙ্গে স্বাস্হ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তর ত্রিপুরা সরকারের সঙ্গে মৌ স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তি অনুসারে ক্লাবফুটে আক্রান্ত শিশুদের পরীক্ষা করা হয়।

আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও জি বি পি হাসপাতালে ২০১৪ সালের ৪ জানুয়ারী থেকে ক্লিনিক শুরু হয়। জি বি পি হাসপাতালে এখনো পর্যন্ত ১৮১ জনের নাম নথিভূক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬ জন ক্লাবফুটে আক্রান্ত শিশুদের প্লাস্টার করা হয়েছে। ২১ জনকে বিশেষ ধরনের জুতো দেওয়া হয়েছে। ১ জনের টেনোটুমি অপারেশন করা হয়েছে।

অন্যদিকে উত্তর ত্রিপুরায় ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে ২০১৬ সালের ৩ জুন থেকে এই চিকিৎসা শুরু হয়েছে। ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে এখনো পর্যন্ত ২১ জনের নাম নথিভূক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১ জন ক্লাবফুটে আক্রান্ত শিশুদের প্লাস্টার করা হয়েছে।৫ জনকে বিশেষ ধরনের জুতো দেওয়া হয়েছে। ১ জনের টেনোটুমি অপারেশন করা হয়েছে।

এই রোগের চিকিৎসা পরিষেবা প্রদানের লক্ষ্যে ২০১৫ সালের ১৫ জানুয়ারী আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও জি বি পি হাসপাতালের সহযোগিতায় জাতীয় স্বাস্হ্য মিশন, ত্রিপুরা বিনামূল্যে একটি স্বাস্হ্য শিবিরের আয়োজন করে। আর. বি. এস. কে টিম রাজ্যে প্রতিটি জেলায় নিয়মিতভাবে ক্লাবফুট রোগে আক্রান্ত ০-১৮ বছরের ছেলেমেয়েদের শণাক্ত করছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্হা করছে।