প্রেস রিলিজ ২৩-১২-২০১৬

ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে আমাদের দেশে যে সমস্ত শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকে তার ৪০ শতাংশ রোটা ভাইরাস ডায়েরিয়াজনিত কারণে হয়ে থাকে। রোটা ভাইরাস একটি তীব্র সংক্রমণযোগ্য ভাইরাস। এর নির্দিষ্ট কোনও চিকিৎসা নেই। রোটা ভাইরাস ডায়েরিয়াজনিত কারণে সারা দেশে প্রতি বছর পাঁচ বছরের নীচে প্রায় ৭৮ হাজার শিশুর মৃত্যু হয়। বিশ্ব স্বাস্হ্য সংস্হার অভিমত অনুসারে রোটা ভাইরাস, আক্রান্ত এক শিশু থেকে অন্য শিশুর দেহে সংক্রমিত হয়। আক্রান্ত শিশুর মলে থাকা জীবাণু মুখের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করতে পারে। পাশাপাশি মাছির মাধ্যমেও এই সংক্রমণ ছড়ায়।

রোটা ভাইরাসের সংক্রমণ টীকাকরণের মাধ্যমে প্রতিরোধ করার জন্য বিশ্বের ৮১ টি দেশে তা চালু হয়েছে। আমাদের দেশে প্রথম পর্যায়ে চারটি রাজ্যে এই টীকাকরণ কর্মসূচী চালু হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে কেন্দ্রীয় সরকার ত্রিপুরা সহ পাঁচটি রাজ্যে তা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

পাঁচ ফোটা প্রতিষেধক শিশুকে ৬ সপ্তাহ, ১০ সপ্তাহ এবং ১৪ সপ্তাহ বয়সে মুখে খাওয়ানো হয়ে থাকে। কোনও কারণে টীকাকরণ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে না করানো হলে এক বছর বয়সের মধ্যে শিশুকে প্রথম ডোজ খাওয়াতে হবে। এই টীকাকরণের মাধ্যমে শিশুর মধ্যে রোটা ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ জন্মাতে সাহায্য করে।

এই টীকাকরণ কর্মসূচী চালু করার প্রস্তুতি হিসেবে ২৩ ডিসেম্বর ২০১৬ প্রজ্ঞাভবনের ৩ নম্বর হলে রাজ্যভিত্তিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় স্বাস্হ্য মিশন, ত্রিপুরা, স্বাস্হ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তর, ত্রিপুরা সরকারের উদ্যোগে ইউনিসেফ, জন স্নো ইন্ডিয়া, ইম্যুনাইজেশন টেকনিক্যাল সাপোর্ট ইউনিট এর সহযোগিতায় এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।